bdbestdoctors@gmail.com
+8801515650331
মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ হলো কিডনি। কিডনি শরীরের বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করে, শরীরের তরল ও লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিন্তু অনেক সময় কিডনি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং রোগী শুরুতে কোনো লক্ষণই বুঝতে পারেন না।
বাংলাদেশে বর্তমানে কিডনি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ার কারণে অনেক রোগীর কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই কিডনি রোগের লক্ষণগুলো আগে থেকেই জানা এবং সময়মতো একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুবই জরুরি।
আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো কিডনি রোগের সাধারণ লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং কখন একজন নেফ্রোলজিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।
মানুষের শরীরে সাধারণত দুটি কিডনি থাকে। এগুলো মেরুদণ্ডের দুই পাশে কোমরের একটু উপরে অবস্থান করে।
কিডনির প্রধান কাজগুলো হলো:
যখন কিডনি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না তখন শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে এবং বিভিন্ন জটিলতা তৈরি হয়।
অনেক সময় কিডনি রোগের লক্ষণ ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। নিচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেওয়া হলো।
কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমে যায়। ফলে দেখা দিতে পারে:
এগুলো কিডনি সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
কিডনি রোগের ক্ষেত্রে প্রস্রাবে নানা পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন:
এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে যায় এবং রক্তস্বল্পতা তৈরি হতে পারে। ফলে রোগী সবসময় ক্লান্তি অনুভব করেন।
কিডনি রোগে অনেক সময় রোগীর:
এগুলোও কিডনি সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
রক্তে বর্জ্য জমে গেলে ত্বকে চুলকানি হতে পারে। অনেক সময় এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে।
শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে গেলে ফুসফুসেও চাপ পড়তে পারে। এতে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রোগের কারণও হতে পারে আবার ফলাফলও হতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশে কিডনি রোগের প্রধান কারণগুলো হলো:
ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিডনি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এটাকে ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি বলা হয়।
দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অনেক মানুষ দীর্ঘদিন পেইনকিলার খেয়ে থাকেন, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
সংক্রমণ বা ইউরিন ইনফেকশন সময়মতো চিকিৎসা না করলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিছু কিডনি রোগ বংশগত হতে পারে।
নেফ্রোলজিস্ট হলো কিডনি রোগের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
নিচের পরিস্থিতিতে অবশ্যই একজন নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত:
কিডনি সমস্যার সন্দেহ হলে ডাক্তার কিছু পরীক্ষা করতে পারেন:
এই পরীক্ষাগুলো কিডনির অবস্থা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে কিডনি ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়।
ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
ধূমপান কিডনির রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে।
বিশেষ করে ৪০ বছরের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
কিডনি রোগ একটি নীরব কিন্তু মারাত্মক সমস্যা। অনেক সময় রোগী লক্ষণ বুঝতে বুঝতেই কিডনি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। তাই কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদি শরীর ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিবর্তন, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা উচ্চ রক্তচাপের মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত একজন কিডনি বিশেষজ্ঞ বা নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরু করলে কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং অনেক জটিলতা এড়ানো যায়।
Find Best Nephrologist in Bangladesh
Corporate Office: North Shyamoli, West Agargaon, Sher-E-Bangla Nagar, Dhaka- 1207
bdbestdoctors@gmail.com
+8801515650331